latest Post

আমাদের লক্ষ্য জীবনমান উন্নয়ন করা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করা। বিশ্ব মন্দার সময় যখন বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ মুখ থুবড়ে পরেছে, তখন বাংলাদেশ একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে। দারিদ্রের হার কমে ২৪% এ নেমে এসেছে, আমাদের পরবর্তী টার্গেট হচ্ছে আগামী ৪ বছরের মধ্যে আরো ১০% কমিয়ে আনা। তিনি বলেন, আমরা এখন যেসব কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, তাতে আমরা আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবই। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত অর্থনৈতিক জাতিতে পরিণত হবে। আমরা যা ঘোষণা দেই, তা আমরা পালনে বদ্ধ পরিকর। আজ শনিবার বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০১৫’ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কিছু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আছে যারা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বৈষম্যের শিকার হন। যেমন- হিজড়া, দলিত, হরিজন ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এ জন্য ‘হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং দলিত, হরিজন ও বেদে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন’ শীর্ষক দুটি কর্মসূচি সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের অগ্রগতির দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। দারিদ্র্য হ্রাস এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে আমরা সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে বয়স্কভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলা ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। তিনি আরও বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে সর্বপ্রথম দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি প্রবর্তন করেন, যা সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে ‘পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম নামে আজ সারাদেশে বিস্তৃত।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৯ সালে সমাজসেবা ভবন উদ্বোধনকালে প্রতিবছর সমাজসেবা দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই থেকে প্রতি বছর ৩রা জানুয়ারি সমাজসেবা দিবস পালিত হয়ে আসছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত কার্যক্রম সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও সমাজকর্মীদের উৎসাহিত করার জন্য দিবসটির তাৎপর্য অপরিসীম। আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি সমাজে ভূমিকা রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই সব পিছিয়েপড়া সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও উন্নয়নে কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা প্রণয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। 
বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর অবদানকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, এ দেশের দরিদ্র ও বিপন্ন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। সে কারণে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তিনি ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম’র ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চা-শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। চা-বাগানের দরিদ্র অসহায় চা-শ্রমিকদের খাদ্য সহায়তা প্রদানের জন্য ‘চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দারিদ্র্য হ্রাসে ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানে এসব কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সমাজের অবহেলিত মানুষদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই না, কোনো শিশু রাস্তায় গড়াগড়ি খাবে। তাদের জন্য একটা আস্তানা দিতে হবে। আমরা চাই একজন মানুষও যেন ঘরহীন না থাকে। গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আগে মানুষ কুঁড়ে ঘরে থাকতো। আর এখন টিনের ঘরে থাকে। তিনি বলেন, আমরা সব মানুষের জীবনমান বাড়াতে চাই। ফুটপাতে, রেললাইনে পড়ে থাকতে দেখতে চাই না। আশা করি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কাজ করবে।

About aloeindica

aloeindica
Recommended Posts × +

0 comments:

Post a Comment